1. iliycharman7951@gmail.com : admin :
  2. iliaych.arman@gmail.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক
সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:৪৯ অপরাহ্ন
Title :
চকরিয়া হারবাং বিটে সামাজিক বনায়নের উপকারভোগীদের নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত চকরিয়া পৌর নির্বাচনে ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী”আবু ছাদেক”এর নির্বাচনী পথসভা চকরিয়া পৌর নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী জিয়াবুল হকের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন চকরিয়া লক্ষ্যারচরে ব্যাংক এশিয়া এজেন্ট ব্যাংকিং শাখার উদ্বোধন বিনা অনুমতিতে ইউপি অফিসে ঢুকে ফেসবুক লাইভ ধারণ;২ টি মোবাইল ফোন জব্দ লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এগিয়ে যাচ্ছে প্রধান কর্মকর্তা ডাঃ মহিউদ্দিন মাজেদ চৌধুরীর দক্ষতায় চকরিয়া উপকূলের ত্রাস টাইগার সালাহউদ্দিনের বিরুদ্ধে গাছ কেটে বসতবাড়ি লুটের অভিযোগ সাহারবিল ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ মিরিন্জায় চলন্ত গাড়ীতে হঠাৎ আগুন,২ যাত্রী আহত চকরিয়ায় চার তরুণের স্বপ্নে গড়া”ফুড হেভেন”রেস্টুরেন্টের শুভ উদ্বোধন আগামী শনিবার

রম্যকাহিনী! সিঁধেলচোর ও একদল সুবিধাভোগী

নির্বাহী সম্পাদক কতৃক প্রকাশিত
  • Update Time : বুধবার, ২ জুন, ২০২১
  • ৩৮২ Time View

মুহাম্মদ ওমর ফারুক, সৌদিআরব জেদ্দা থেকে

অনেক দিন আগের কথা। চলছিল সেই সামন্ত যুগ। তখন রাজা মহারাজার পাশাপাশি তাদের দোসর ভূপতিরা এলাকা ভিত্তিক দেশ পরিচালনা করত। তখন এক গ্রামে এক নাম করা চোর ছিল।
ফউজ্জা চোরা নামে গ্রামে বেশ পরিচিত ছিল। তার নাম ছিল ফজর আলী। কিন্তু ফজর আলী নামে কেউ ডাকেনা। সবাই ফউজ্জা চোরা বলেই ডাকত।
শাবল আর কোদাল ছিল তার চুরি করার উপকরণ। মাটির পিড়া কেটে রাতের আঁধারে গৃহস্তের ঘরে ঢুকে চুরি করত ফউজ্জা চোরা। মাঝেমধ্যে ধরা পড়ত। গ্রাম্য সালিশে তার বিচার হতো। উপস্থিত সবার সামনেই তাকে উত্তম-মাধ্যম দেওয়া হতো।
বড়জোর মুরুব্বি গোচের কেউ দু-চারটা চড়,থাপ্পড় কিল-ঘুষি, আন্না গুতা ও কান মলা দিত। শাস্তি শেষ। আর কখনো চুরি করবে না, এই বলে কসম-টসম খেয়ে দিব্যি বিদায় নিত।
মাঝে মধ্যে গ্রামের দুষ্ট পোলাপান আরও বেশী শাস্তির জন্য হৈ-হুল্লোড় চিল্লাচিল্লি করলে বিচারক মুরব্বিরা ধমক দিয়ে তাড়িয়ে দিত।
সালিশ থেকে বের হয়ে বেশ ফুরফুরে মেজাজে ফউজ্জা চোরা ঘুরে বেড়াত। ভাবখানা এমন, যেন কিছুই হয়নি। আবার কয়েকদিন পর শোনা যায়, অমুক পাড়ার ছলিমুদ্দিনের বাড়িতে সিঁধ কেটে চুরি হয়েছে। কিংবা পশ্চিমপাড়ার কলিমুদ্দিনের বাড়িতে নতুন বউয়ের শাড়ি-গহনা চুরি হয়েছে রাতে, সেই একই কায়দায়, সিঁধ কেটে।
বাজারে সবার সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় ফউজ্জা চোরা পড়ে ধরা। আবার বিচার-সালিশ, আবারও স্বীকারোক্তি। আবার সেই শাস্তি। কিন্তু কখনো তাকে পুলিশে দেওয়া হতো না।
তখন ভূপতি ও গ্রামের মুরব্বিরা শলাপরামর্শ করে ফউজ্জা চোরার বেপরোয়া চুরি কর্মে অতিষ্ঠ হয়ে একটি সিদ্ধান্ত নিল। সিদ্ধান্তটি এমন, সিঁধ কেটে ছোট খাট ও অসহায় মানুষদের বাড়ী-ঘর আর চুরি করবেনা!
যা করবে বড় লোক আর ধনবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তির ঘরে চুরি কার্য্য চালিয়ে যাবে। যেহেতু তার সংসার আছে। কোন কিছু করে পেট তো চালাতে হবে।
এ কারণেই কি না ফউজ্জা চুরির চামারির সেই পথ থেকে আর কখনো ফিরেনি। ফেরার কথাও না। চুরিই ছিল তার একমাত্র পেশা নেশা। চুরি ছাড়া তার আর কোন কাজ জানা ছিলনা। কোনো কাজকর্ম কিছুই করত না।
চুরিতে দিব্যি সংসার চলে যেত তার। তার সুন্দরী বউ ছিল। মাঝেমধ্যে বউ নিয়ে গ্রামের বাজারে গিয়ে কেনাকাটা করত।
গ্রামে যাত্রা বালা, গান-বাজনা, কোথাও রং তামাশা হলে ফউজ্জা ছুটে যেত। ইহাও নাকি চুরির মত তার আরেকটি নেশা। অনেক দূরের গ্রামে হলেও তার সরব উপস্থিত। বেশ আরামদায়ক জীবন। নো টেনশন।
এই যে গ্রাম্য সালিশে তাকে উত্তম-মাধ্যমের ব্যাপার, এগুলো তার কাছে কোনো ব্যাপারই ছিল না লজ্জা-শরম-সামাজিক অবস্থান? এগুলোকে মনে হয়
সেই কবে মন থেকে ধুইয়ে-মুছে, ঝেড়ে ফেলা দিয়েছে ফউজ্জা চোরা।
তাই এ গুলোকে নিয়ে তার আর কোনো চিন্তাটিন্তা ছিল না।
একদিন বস্তবড় কান্ড ঘটেগেল, ফউজ্জা চোরা গ্রামের গরীব অসহায় এক বুড়ির ঘটি-বাটি,চাল চুরি করে পালানোর সময় গ্রামের দুষ্ট পোলাপানের হাতে ধরা পড়ে গেল।
পোলাপান আর গ্রামের বুরব্বি ও এলাকার ভূপতিদের না জানিয়ে ফউজ্জা চোরাকে সোজা রাজামহারাজার কাছে নিয়ে গেল। সাথে ভুক্তভোগীরা জটলা বেঁধে তারাও মহারাজার কাছে ফউজ্জা চোরার বিরুদ্ধে নালিশ দিল।
মহারাজা তার সভাসদের সকল কর্মকর্তাদের ডেকে রাজদরবারে বড় সড় শালিশের আয়োজন করল।
পরিশেষে ফউজ্জা চোরার দীর্ঘদিনের সকল চুরি চামারির ঘটনা সত্য প্রমান হওয়ায় মহারাজা বিচারের রায় ঘোষণা করল। ফউজ্জা চোরার শত শত চুরির অপরাধে শাস্তিস্বরূপ তাকে শূলেচড়ানো হোক। মহারাজা এমনটি নির্দেশ দিল।
এখানে শূলে উঠার আগে ফউজ্জা চোরা মহারাজার কাছে কিছু বলার জন্য বিনীত অনুরুধ জানাল। অনুমতি পেয়ে ফউজা যা বলল এতে সবার চক্ষু চড়কগাছ ! উপস্থিত সকলেই। আশ্চর্য হয়েগেল।
মহারাজা আমি শুধু চুরি করেছি, কিন্তু চুরির সমস্ত টাকা পয়সার ভাগ দীর্ঘদিন ধরে সমান ভাবে গ্রামের সেই বিচারক মুরব্বি ও এলাকার ভূপতিরা সবাই মিলে ভাগ নিয়েছে।
মহারাজা ফউজ্জা চোরাকে বেকসুর খালাস দিয়ে তার চুরি চামারি ও যাবতীয় অপকর্মের সুবিধাভোগী গ্রামের সেই শালিসকার মুরব্বি ও ভূপতিদেরকে ধরে বেঁধে আনার নির্দেশ দিলেন। সাথে সবাইকে মাথা নেড়া করে দেওয়ার জন্য বলা হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 LatestNews
Theme Customized BY Infobytesbd.com